০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায় জনগণ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল ঐতিহাসিক জুলাই যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করেছে তা টিকিয়ে রাখতে হবে ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন ‘আয়েশা-আমিরুল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি’ জাবিতে হাসিনার পলায়ন দিবস উদযাপনে মিষ্টি বিতরণ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ, সরকারকে সাধুবাদ ফখরুলের বিভেদ-অনৈক্য অব্যাহত থাকলে অনিবার্য ওয়ান ইলেভেনের দিকে যাবে দেশ: মঞ্জু তারেক রহমানের হাতে দেশের শাসনভার চাইলেন নিজাম ‌‘সুযোগ পেলে প্রথম দিন থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করবে বিএনপি’ গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে হেফাজতের বিজয় র‍্যালি

ট্রাম্পের আলটিমেটাম উড়িয়ে দিলেন পুতিন, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

প্রতিনিধির নাম
  • ০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 430

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। তবে একযোগে পুরো ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির আলটিমেটাম এবং সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়েও কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি পুতিন।

উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার ভালাম দ্বীপে শুক্রবার দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, সব হতাশার উৎসই হচ্ছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘পুতিনের ওপর হতাশা’ প্রকাশের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এর একদিন আগেই রাশিয়া কিয়েভে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়, যাতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও ছিল। ওই হামলায় একটি নয়তলা ভবনের একটি ব্লক সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

এই হামলার ঠিক পরদিনই পুতিন বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে একইসঙ্গে ফের দাবি করেন, ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে এবং রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা ইউক্রেন ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জবাবে বলেন, তিনি ‘যেকোনো সময়’ পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। তবে প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়া কি সত্যিই সম্মানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, নাকি এটা সময়ক্ষেপণের কৌশল মাত্র।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চাচ্ছেন দুই পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ করুক। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েলে রয়েছেন এবং শিগগির রাশিয়ায় যাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধ না থামলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসবে, এমনকি যারা রাশিয়ার তেল কিনবে, তারাও শাস্তির আওতায় আসবে।

তবে পুতিন এই হুমকিতে কান দিতে নারাজ। বরং তার বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তিনি পশ্চিমা চাপকে মোকাবিলা করেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। রুশ সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নিয়ে রাশিয়ার তেমন উদ্বেগ নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য এখন ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করা। তাই আলোচনার কথা বললেও, যুদ্ধ থামানোর কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে না মস্কো।

জাতিসংঘ এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় যে তিন দফা আলোচনা হয়েছে, সেখানেও ফলাফল শূন্য। বন্দি বিনিময়ের মতো ছোটখাটো বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল সংকট দূর হওয়ার ইঙ্গিত নেই।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জন কেলি বলেন, এখনই সময় একটি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোনোর। মানুষ মরছে, দেশ ধ্বংস হচ্ছে। আর কতকাল চলবে এই রক্তপাত?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রাম্পের আলটিমেটাম উড়িয়ে দিলেন পুতিন, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

০৫:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। তবে একযোগে পুরো ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির আলটিমেটাম এবং সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়েও কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি পুতিন।

উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার ভালাম দ্বীপে শুক্রবার দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, সব হতাশার উৎসই হচ্ছে অতিরিক্ত প্রত্যাশা। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘পুতিনের ওপর হতাশা’ প্রকাশের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এর একদিন আগেই রাশিয়া কিয়েভে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়, যাতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশুও ছিল। ওই হামলায় একটি নয়তলা ভবনের একটি ব্লক সম্পূর্ণ ধসে পড়ে।

এই হামলার ঠিক পরদিনই পুতিন বলেন, ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে একইসঙ্গে ফের দাবি করেন, ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে এবং রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা ইউক্রেন ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে দেখে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জবাবে বলেন, তিনি ‘যেকোনো সময়’ পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। তবে প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়া কি সত্যিই সম্মানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, নাকি এটা সময়ক্ষেপণের কৌশল মাত্র।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি চাচ্ছেন দুই পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ করুক। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ইসরায়েলে রয়েছেন এবং শিগগির রাশিয়ায় যাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধ না থামলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসবে, এমনকি যারা রাশিয়ার তেল কিনবে, তারাও শাস্তির আওতায় আসবে।

তবে পুতিন এই হুমকিতে কান দিতে নারাজ। বরং তার বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তিনি পশ্চিমা চাপকে মোকাবিলা করেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। রুশ সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নিয়ে রাশিয়ার তেমন উদ্বেগ নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য এখন ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করা। তাই আলোচনার কথা বললেও, যুদ্ধ থামানোর কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে না মস্কো।

জাতিসংঘ এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় যে তিন দফা আলোচনা হয়েছে, সেখানেও ফলাফল শূন্য। বন্দি বিনিময়ের মতো ছোটখাটো বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল সংকট দূর হওয়ার ইঙ্গিত নেই।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জন কেলি বলেন, এখনই সময় একটি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোনোর। মানুষ মরছে, দেশ ধ্বংস হচ্ছে। আর কতকাল চলবে এই রক্তপাত?